সুনামগঞ্জ , শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬ , ৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি : প্রেস সচিব শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ জনের ১৮ জনই সুনামগঞ্জের, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর শঙ্কা জয়শ্রী ইউনিয়ন বিএনপির দ্বিবার্ষিক সম্মেলন জগন্নাথপুরে দু’পক্ষের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ ২ শিশুরা জন্মগতভাবে সরল এবং তারা বড়দের অনুকরণ করেই মিথ্যা বলতে শেখে দিরাইয়ে বিজিবি সদস্য পরিচয়ে হোটেলে চুরি, গ্রেপ্তার ১ তাহিরপুরে হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর-লুটপাটের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সুরমার জলে মিলল শিশুর নিথর দেহ : হত্যার অভিযোগে সৎমায়ের বিরুদ্ধে মামলা সরকারি কলেজে গণিত বিভাগের বিদায়-নবীন বরণ অনুষ্ঠিত ৭ মাসে ২২০৮ বিরোধ নিষ্পত্তি, বেড়েছে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা, ৩৬ লাখ ৮৮ হাজার টাকা জরিমানা আদায় গোবিন্দগঞ্জে রেলওয়ের জমিতে পশুর হাট, স্থাপনা সরিয়ে নিতে নোটিশ নতুন রাষ্ট্রপতি শপথ নেবেন শুক্রবার সন্ধ্যায় শান্তিগঞ্জে বিশ্বজন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের ৫১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন যন্ত্রপাতির অভাবে চালু হচ্ছে না ডায়াবেটিস হাসপাতাল দিরাইয়ে পাওনা টাকা নিয়ে দু'পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৭ জামালগঞ্জে ৫০ কেজি কারেন্ট জাল জব্দ, দোকানিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা তাহিরপুরে ছাতার ভেতর ইয়াবা, ১০০ পিসসহ মাদক কারবারি আটক বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও পথসভায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ জনের ১৮ জনই সুনামগঞ্জের, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর শঙ্কা

  • আপলোড সময় : ২২-০৮-২০২৬ ০৮:৪৮:১০ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২২-০৮-২০২৬ ০৮:৪৯:৩২ পূর্বাহ্ন
ভূমধ্যসাগর থেকে উদ্ধার ২৯ জনের ১৮ জনই সুনামগঞ্জের, ৯ বাংলাদেশির মৃত্যুর শঙ্কা
বিশেষ প্রতিনিধি::
লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিস যাওয়ার পথে মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছানো ২৯ বাংলাদেশি নাগরিকের মধ্যে ২৭ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলারই ১৮ জন। জীবিত উদ্ধার হওয়া ২৭ বাংলাদেশি বর্তমানে সুস্থ রয়েছেন এবং মিশরের স্থানীয় পুলিশ হেফাজতে আছেন। তবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন পরিচয় শনাক্ত না হওয়া আরও দুই বাংলাদেশি। জীবিত উদ্ধার হওয়া অভিবাসনপ্রত্যাশীদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নৌকাটিতে থাকা আরও অন্তত ৯ বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন। পরে তাদের মরদেহ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জীবিত উদ্ধার হওয়া সুনামগঞ্জের আব্দুল করিম। ফলে সুনামগঞ্জের এসব পরিবারের মধ্যে স্বজনদের ভাগ্যে কী ঘটেছে, তা নিয়ে গভীর উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট মানবপাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়ার তবুক এলাকা থেকে বাংলাদেশিসহ অভিবাসনপ্রত্যাশীরা একটি নৌকায় করে গ্রিসের উদ্দেশে যাত্রা করেন। ভূমধ্যসাগরে যাওয়ার পর নৌকাটির ইঞ্জিন বিকল হয়ে যায়। এতে নৌকাটি দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং প্রায় ১০ দিন সাগরে ভাসতে থাকে। পরে গত ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিশরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। এ সময় স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অসুস্থ ও অচেতন অবস্থায় বাংলাদেশিদের উদ্ধার করে মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসায় ২৭ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে তাদের মারসা মাতরুহ পুলিশ স্টেশনের সঙ্গে সংযুক্ত একটি অস্থায়ী কারাগারে রাখা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতে থাকা ২৭ বাংলাদেশির মধ্যে সিলেট বিভাগের চার জেলার ২৪ জন। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলার ১৮ জন রয়েছেন।
তারা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার তায়েবুর রহমান, মো. মাহফুজ মিয়া, মো. লোহানী আহমেদ, বদর উদ্দিন, সোহেল মিয়া, মো. হোসাইন আহমেদ, আলিম উদ্দিন, সাব্বির হোসেন তালহা, এনাম উদ্দিন, আবু সাঈদ এয়াহিয়া, আব্দুল করিম ও মো. মামুন খান। এছাড়া দিরাই উপজেলার নাইম আহমেদ, জগন্নাথপুর উপজেলার সাইদুল ইসলাম, মো. হোসাইন মিয়া, আরিফ আহমেদ ও হুজাইফা বিন হোসাইন এবং ছাতক উপজেলার তোফায়েল আহমেদ রয়েছেন। হবিগঞ্জ জেলার তিনজন হলেন- সদর উপজেলার মোস্তাকিন ভূঁইয়া এবং আজমিরীগঞ্জের সোহেল মিয়া ও রিয়াজ উদ্দিন আহমদ। সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের তানভীর হোসেন এবং বিয়ানীবাজারের রাজু মিয়া ও নজরুল ইসলাম রয়েছেন তালিকায়। সিলেট বিভাগের বাইরে থাকা তিনজন হলেন মাদারীপুরের মো. ফারুক, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের সায়মন মিয়া এবং ভৈরবের মহরম আলী। এদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দুই বাংলাদেশি নাগরিকের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এছাড়া মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানিয়েছেন, কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামের মেহেদি হাসান, পিতা মো. সাবু মিয়া, মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। পরে গত ১৬ আগস্ট বিকেলে একই উপকূল থেকে আরও এক বাংলাদেশির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে দুটি মরদেহ হাসপাতালের মর্গে সংরক্ষিত রয়েছে।
দূতাবাস সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া জীবিত বাংলাদেশিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নৌকাটিতে থাকা আরও নয় বাংলাদেশি সাগরে মারা গেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তাদের সঠিক পরিচয় ও মরদেহের বিষয়ে নিশ্চিত হতে জীবিত উদ্ধার হওয়া সহযাত্রীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য সংশ্লিষ্ট মিশরীয় কর্তৃপক্ষের কাছে সাক্ষাৎকার গ্রহণের সুযোগ চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ দূতাবাস। নৌকা থেকে শামীম আহমেদ ও হাবিব উল্লাহ নামের দুটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) এবং হৃদয় পাল, মো. হাবিব উল্লাহ ও নুর আলম নামের তিনটি পাসপোর্টও পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। এসব নথি নিখোঁজ বা মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (শ্রম) মো. জাকির হোসেন জানান, মিশরের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আদালত ও প্রসিকিউশনের সিদ্ধান্তের পর আটক ২৭ বাংলাদেশির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে মর্গে সংরক্ষিত দুই মরদেহের পরিচয় নিশ্চিত করে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে। তিনি আরও জানান, আইনগত প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর আটক বাংলাদেশিদের দ্রুত দেশে ফেরত পাঠানো এবং মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার ঝুঁকিপূর্ণ পথে সুনামগঞ্জসহ সিলেট বিভাগের বিপুলসংখ্যক তরুণের এমন বিপজ্জনক যাত্রা ফের সামনে এসেছে। জীবিত উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের বক্তব্যে সাগরে আরও বাংলাদেশির মৃত্যুর তথ্য উঠে আসায় নিখোঁজদের স্বজনদের উৎকণ্ঠা আরও বেড়েছে। এখন জীবিতদের সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে সাগরে মৃত্যুর শিকার ও নিখোঁজ বাংলাদেশিদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে পরিবারগুলো।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স
শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি

শপথ নিলেন বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি